Breaking News
Home / জাতীয় / মামুনুল হকের সাজা দাবি করছে খোদ হেফাজতে ইসলাম

মামুনুল হকের সাজা দাবি করছে খোদ হেফাজতে ইসলাম

হেফাজতের গ্রুপিং এখন চরমে উঠেছে। বিশেষ করে মামুনুল হকের বিত’র্কিত নানা রকম বক্তব্য এবং একের পর এক নারী কেলে’ঙ্কারির ঘটনা উন্মোচিত হওয়ায় হেফাজতের মধ্যে চলছে তোলপাড়। সংগঠনের একাধিক নেতা বলছেন, মামুনুল হক শরীয়া বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন, এটা মেনে নেয়া যায় না। এর প্রেক্ষিতে হেফাজতের একাধিক শীর্ষ নেতা মামুনুলের সাজা দাবি করেছেন দলের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছে। জুনায়েদ বাবুনগরী এখন কী করবেন সেটাই দেখার বিষয়।

সূত্র বলছে, বিভিন্ন কারণে মামুনুলের ওপর ক্ষুব্ধ হেফাজতের আলেমগন এবং নেতৃবৃন্দ। প্রথমত যখন ২৬ এবং ২৭ মার্চে এতবড় ঘটনা ঘটে গেল, অধিকাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আত’ঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে, মা’রা গেছে অন্তত ১২ জন (হেফাজতের হিসাব মতে)। সেই পরিস্থিতিতে মামুনুল হক কীভাবে প্রমোদবিহারে গেলেন।

দ্বিতীয়ত, মামুনুল হক সেখানে যে মিথ্যা বললেছেন, তার কিছু বক্তব্য থেকে এটা প্রমাণিত হয়।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের একজন আলেম বলেছেন, মিথ্যা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। এটার মধ্যে কোনো যদি, কিন্তু, ইত্যাদি নেই। মামুনুল হক যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেই থাকেন তাহলে সেটার ব্যাপারে তিনি অটল থাকতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যখন তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফোন করে এ বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন, তখন সুস্পষ্টভাবে তিনি ইসলামবিরোধী কাজ করেছেন বলে মনে করেন হেফাজতের একাংশের মুরুব্বিরা।

তৃতীয়ত, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এটিও ইসলামের শরীয়া সম্মত নয় বলে মনে করছেন তারা।

তবে সর্বশেষ ফেসবুক লাইভে মামুনুল হক যা বলেছেন, তাতে হেফাজত এবং আলেম সমাজ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে বলে হেফাজতের একাধিক মুরুব্বি মনে করছেন।

হেফাজতের একাধিক নেতা বলেছেন, মামুনুল হক ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। স্ত্রীকে খুশি করার জন্য সীমিত আকারে সত্য গোপন করা যায়, এ ধরনের বক্তব্য কখনই ইসলাম সমর্থন করে না। এমন কোনো দলিলও নেই। নিজের অপকর্ম ঢাকতে ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় তার সাজার দাবি করছেন হেফাজতের অনেক শীর্ষ নেতা।

তবে হেফাজতের একাধিক সূত্র বলছে, মামুনুল হক যেহেতু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা, তার কর্মীবাহিনী আছে এটা বাবুনগরীর কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এ কারণেই মামুনুলের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বাবুনগরী নমনীয়। তাছাড়া হেফাজতের অন্য একটি অংশ মনে করছে, এখন যদি মামুনুলের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে প্রকারান্তরে হেফাজতই দুর্বল হয়ে যাবে এবং তাদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

তবে মামুনুল হকের সর্মথকরা মনে করছে, এখন মামুনুল হক যাই বলুন না কেন সেটাকে হেফাজতের পক্ষ থেকে সমর্থন করতে হবে এবং তার পাশে দাঁড়াতে হবে। আর তা না হলে হেফাজতই বিত’র্কের মুখে পড়বে। হেফাজতের কর্মকাণ্ড নিয়েই জনমনে নানা রকম প্রশ্ন উঠবে।

আর এ কারণেই মামুনুলের শাস্তি দাবি করা হলেও তার বিরু’দ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না জুনায়েদ বাবুনগরী। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় হেফাজত টালমাটাল অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত হেফাজতের ভাঙন যে অনিবার্য সেটি নিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Check Also

উজ্জল সভাপতি ও রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ভোলা জেলা নাগরিক ফোরাম (বিডিসিএফ) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

    বিশেষ প্রতিনিধিঃ দৈনিক সয় সংবাদ24 ভোলা জেলার জনতা”আমরা সবাই একতা এই স্লোগানকে সামনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *