Breaking News
Home / খেলা / বায়ার্নের ধ্বংসাত্মক ফুটবলে ‘ধূলিস্যাৎ’ বার্সেলোনা

বায়ার্নের ধ্বংসাত্মক ফুটবলে ‘ধূলিস্যাৎ’ বার্সেলোনা

১৪ অগস্ট ২০২০ এস্তাদিয়ো দ্য লুজ স্টেডিয়ামে বারবার ফিরে আসছিল ৮ জুলাই, ২০১৪-র বেলো হরাইজন্তে। সেদিন জোয়াকিম লো’র ছেলেদের বিধ্বংসী ফুটবল সাম্বা ফুটবলকে তাদেরই ঘরের মাঠে যে ঘা দিয়ে গিয়েছিল তার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। ছ’বছর পরে এসেও ব্রাজিল সমর্থকদের উঠতে বসতে বিদ্রুপ শুনতে হয় সেদিনের অভিশপ্ত রাত নিয়ে। এবার বোধহয় তা শেষের পালা।

কারণ শনিবার বেনফিকার হোম-গ্রাউন্ডে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ বার্সেলোনাকে নিয়ে যে ছেলেখেলাটা করল, তা ছাপিয়ে গেল অতীতের সবকিছুকে। গায়ে চিমটি কেটে বিশ্বাস করতে হলেও এটাই সত্যি যে বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে হারল বার্সেলোনা।

তিকিতাকা তার গরিমা হারিয়েছে আগেই। জাভি-ইনিয়েস্তারা ক্লাব ছেড়েছেন। তবু সেখানে একজন ফুটবল ঈশ্বর আছেন। বার্সেলোনা নামটায় তাই সম্ভ্রম জাগত আগের মতোই। শনিবারের পর সেই সম্ভ্রম আগের মতো থাকবে নাকি ফিকে হয়ে যাবে অনেকটাই, সেটা সময় বলবে। কিন্তু যে ধাক্কাটা মুলার-লেওয়ানদোস্কিরা এদিন কাতালান ক্লাবকে দিয়ে গেলেন, সেটা সামলাতে যে বহুদিন লেগে যাবে সন্দেহ নেই। ২০১৪ সেই রাত আর এদিনের রাতে একজন ‘কমন ফ্যাক্টর’ টমাস মুলার। ব্রাজিলকে সেদিন ৭ গোল দেওয়ার পিছনে জার্মান স্ট্রাইকার অবদান রেখেছিলেন ২টি গোলের।

আর বার্সেলোনাকে বায়ার্নের ৮ গোল দেওয়ার দিনেও ২ গোলের অবদান রাখলেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে মুলার জানালেন, ‘সেদিন ব্রাজিলকে ৭ গোল দিলেও আমরা এতোটা কর্তৃত্ব ফলাতে পারিনি, যতোটা আজ বার্সেলোনার উপর ফলালাম।’ আসলে বার্সেলোনার এই কদর্য ফুটবলকে নিয়ে বলার ভাষা যেন কোথাও এসে আটকে যাচ্ছে। পরিবর্তে জার্মান জায়ান্টদের হাই-প্রেসিং ফুটবল নিয়ে বলাই বোধহয় শ্রেয় হবে। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির অকালে বিদায়ের পর যে টার স্টেগেনকে না খেলানো নিয়ে কিয়দংশের অনুরাগী জোয়াকিম লো’র মুন্ডপাত করেছিলেন, সেই টার স্টেগেনকে দেখে বড্ড অসহায় লাগছিল।

দলের কদর্য ডিফেন্সের উত্তর তাঁর দস্তানায় ছিল না। পিকে, সেমেদোদের ভুলের বোঝা বয়ে তাঁকে কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে জানা নেই। তবে পিকে-বুসকেটস এমনই অনেক ফুটবলারকে যে কাতালান ক্লাবটা নেহাতই বয়ে বেড়াচ্ছে সে ব্যাপারগুলো অঙ্গুলি নির্দেশ করে এদিন দেখিয়ে গেল বায়ার্ন। সুয়ারেজ গতি হারিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশ-ট্যাগে ট্রেন্ডিং ধার করেই বলতে হয় ‘মেসি একা কী করবেন’। এদিনের ফলাফলের পর বার্সেলোনা ক্লাবটার খোল-নলচে যে কিছুটা বদলাবে সেটা নিশ্চিত। কিন্তু অভিশপ্ত রাত কতদিন তাড়া করে ফেরে ক্লাবকে, সেটাই দেখার। তবে আনসু ফাতি, রিকি পুই’য়ের মত তরুণ প্রতিভাবানরা আছে। তাই বার্সেলোনা ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে।

রয়ে গেল বায়ার্নের কথা। যেহেতু বুন্দেসলিগা খেলে তাই প্রচার কম পায়। আর এটাই বোধহয় কাল হয়ে দাঁড়াল বার্সেলোনার কাছে। এদিন ম্যাজিক শুরু ম্যাচের ৪ মিনিটে। এরপর ২১, ২৭, ৩১, ৬২, ৮২, ৮৫, ৮৯। এই সময়গুলোতে ফালা-ফালা হল বার্সা রক্ষণ। জোসুয়া কিমিচ, আলফোন্সো ডেভিয়েস, থিয়াগো আলকান্তারাদের দেখে মনে হচ্ছিল বুঝি পাড়ার টুর্নামেন্টে খেলতে নেমেছেন। শেষদিকে নেমে বার্সার কফিনে জোড়া পেরেক পুঁতলেন প্রাক্তনী কুটিনহো। গোলের পর সমব্যথী হয়ে বোধহয় সেলিব্রেশনেও মাতলেন না। বায়ার্নের হয়ে ২টি গোল করলেন মুলার, ২টি কুটিনহো। একটি করে গোল পেরিসিচ, ন্যাব্রি, কিমিচ এবং লেওয়ানদোস্কির।

মাঝে ৭ এবং ৫৭ মিনিটে দু’টি সান্ত্বনাসূচক গোল বার্সার। ওই হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে গেলে যেটুকু বলিদান দিতে হয় আর কী। চল্লিশের দশকে একবার রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ১১-১ ব্যবধানে এবং আরেকবার সেভিয়ার কাছে ৮-০ ব্যবধানে মাথা নুইয়েছিল কাতালানরা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা গত সাড়ে সাত দশকে বায়ার্নের কাছে হারটাই সবচেয়ে লজ্জাজনক বার্সেলোনার। সবমিলিয়ে মেসিদের ধূলোয় মিশিয়ে ম্যান সিটি-লিয়ঁ ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবেন লেওয়ানদোস্কিরা। আর বার্সেলোনা সম্ভবত মুখোমুখি পালাবদলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *