Breaking News
Home / জাতীয় / একাই লড়ছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, শেখ হাসিনা

একাই লড়ছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, শেখ হাসিনা

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নি’র্মম ও ব’র্বর হ’ত্যাকাণ্ডের পর উল্টো পথে চলা বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ কখনো মসৃণ ছিল না। আর শেখ হাসিনাকে পথ চলতে হয়েছে আরো কঠিন ক’ণ্টকাকীর্ণ পথে। মানব কল্যাণ আর দেশপ্রেমে উজ্জীবিত শেখ হাসিনা নিজের সবটুকু সামর্থ্য ঢেলে দিয়ে শো’ষিত-নির্যা’তিত জনতার অধিকার আদায়ের ল’ড়াইয়ে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৪ দশক যাবত।

২০০৮ এর নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে জয়ী হয়ে দেশ গঠনে একাই ল’ড়াই করে চলেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। ৩০ লাখ শহীদ ও জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত জাতি রাষ্ট্রকে এক মর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা বিনির্মাণে কার্যকরী সময়োপযোগী কর্মসূচিতে পৃথিবীর বুকে অনন্য নিদর্শন রেখে চলেছেন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিব’ন্ধকতা।
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল বাংলাদেশ ঠাঁই করে নেয় পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন ঠিকানা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। আমরা দেখতে পাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, বেকারত্ব হ্রাস, জেলেদের খাদ্য সহায়তা, কৃষিতে সফলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ফ্লাইওভার তথা অবকাঠামো উন্নয়নে বিপ্লব ঘটেছে। স্থলসীমানা চুক্তির বাস্তবায়ন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, গরিব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে ১ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই বিতরণ, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন, মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষপণ, অভ্যরীণ ও আঞ্চলিক সন্ত্রা’স ও জ’ঙ্গিবাদ কঠোর হস্তে দম’ন করেছেন।
পিলখানায় নৃশং’স হ’ত্যাকাণ্ডের পর একাই সামাল দিয়েছেন ভ’য়ংকর ষড়’যন্ত্র ও সং’কট। আজ তাদের বিচার হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধু-কন্যার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি ও জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ১ নম্বর স্থান দখ’ল করে নিয়েছে। তার ৪০ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামে বারবার ঘা’তকের কালো থাবা ও মৃ’ত্যুকে জয় করে ক্ষমতায় আছেন বলেই জাতির জনকের হ’ত্যাকারীদের বিচার কার্যকর হয়েছে। দেশি-বিদেশি শক্তির নানা ষড়’যন্ত্র ও চাপ থাকা সত্ত্বেও একাত্তরের কু’খ্যাত অপরাধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা গণহ’ত্যাকারীদের মানবতাবিরো’ধীদের আইনের আওতায় এনে কয়েকজনের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং বিচার কাজ এখনো চলমান।
ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিচুক্তির বাস্তবায়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক আদালতে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে মামলায় জিতে সমুদ্র সীমানা নির্ধারণ করে আরেক বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছেন। ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঠাঁই দিয়ে মানবতার এক অনন্য নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের একটানা ৩ বারের ধারাবাহিকতায় চারবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় দেশের আমূল অবস্থার পরিবর্তন করতে অঙ্গিকারবদ্ধ, তখন সুযোগ সন্ধানী লু,টেরাদের সিন্ডিকেট মরিয়া হয়ে উঠেছে। মৌ’লবাদ, জ’ঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রা’সবাদ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপোসহীন। তখন এই সং’কট বাঁচিয়ে রাখতে স্বাধীনতা বিরো’ধী শক্তি ও তাদের অনুসারীদের সরকার ও দলে বিভিন্ন সময়ে পুনর্বাসন করে চলেছে দেশ বিরো’ধী এক আদর্শহীন অর্থলোভি গোষ্ঠী।
দুর্নীতির বিরু’দ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা যখন অভিযান পরিচালনা করে তখন নানা ষড়’যন্ত্রে থামিয়ে দেয়া হয়। পাপিয়া গং যখন নেতা, আমলা ও রাষ্ট্রকে জি’ম্মি করে শতশত কোটি টাকার কাজ লু’টে নেয় তখন এই অপরাধীরা আড়াল থেকে আবারো শুরু করে ষড়’যন্ত্র। দুর্নীতির বিরু’দ্ধে সোচ্চার থেকে বঙ্গবন্ধু-কন্যার হাতকে শক্তিশালী করতে যারা লেখালেখি করে কিংবা বলা শুরু করে, তাদেরও থামিয়ে দিতে মরিয়া ক্ষমতার চারপাশে বসে থাকা এই সিন্ডিকেট। হুম’কি ধা’মকি কিংবা নানাভাবে হয়রা’নি করা শুরু হয় তাদের মদদে।
আজ শেখ হাসিনার দীর্ঘ সময়ের স্বাস্থ্যখাতের শত উদ্যোগ ও সংস্কারকাজকে প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে এক দুর্নীতিবাজ মহল। মহামা’রী করোনাকালে আজ স্বাস্থ্য খাতের লু’টেরাদের মুখোশ উন্মোচনের পথে। ১৮ কোটি মানুষের জনস্বাস্থ্যকে নিয়ে যারা প্র’তারণা করে আসছে তাদের সকল সঠিক খবর নিশ্চয়ই এবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। তাদের বিরু’দ্ধে অ্যাকশন দেখার অপেক্ষায় জাতি।
আমরা দেখেছি বিশ্বের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে করোনা মোকাবেলায় সফল নারী নেতৃত্বের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস সং’ক্রমণের শুরুতে যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বাংলাদেশে তা এখনো কার্যকর করতে পারেনি যুক্তরাজ্য।
তবে করোনা আঘা’ত হানার শুরু থেকেই এক ধর্মা’ন্ধ গোষ্ঠী, নেতা ও আমলাদের একটি মহল বিভিন্ন বিভ্রা’ন্তিমূলক তথ্য উপস্থাপন করে আসছে। যার কারণে সঠিকভাবে কী করতে হবে জনগণেরও বুঝতে ক’ষ্ট হয়েছে। আজ দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়েছে করোনার সাথে এই ল’ড়াইয়েও ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, বাকিরা আছে সব পর্যবেক্ষণে। দায়িত্বশীল অনেক আমলা-মন্ত্রীদের আচরণে সাধারণ মানুষ ক্ষু’ব্ধ। তারা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। দায়িত্ব কর্তব্যের ধারে কাছে না যেয়ে শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী না বললে তাদের কোন কিছুই করতে পারেন না। যখন কিছু বলেন তখন ঝাঁপিয়ে পড়েন অন্ধের মত।
আজ সৈয়দ আশরাফ এর মত সৎ নির্লোভী নেতা বড় প্রয়োজন শেখ হাসিনার সকল সং’কটে ও ল’ড়াইয়ে। ১/১১ এর কঠিন সময় কিংবা হেফাজত ইসলামের তা’ণ্ডবের মুখে দাঁড়িয়ে বলিষ্ঠ উচ্চারণ একজন সৈয়দ আশরাফ এর কাছ থেকে শুনতে পারে জাতি। বঙ্গতাজের যোগ্য উত্তরসূরী সোহেল তাজের মত সৎ নিষ্ঠাবান ও কর্মোপযোগী সাহসী যো’দ্ধা প্রয়োজন আপনার পাশে। আপনার চারপাশে অনেক বড় বড় চেহারার মানুষ থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে কারো গ্রহণযোগ্যতা আছে বলে মনে হয় না।
মনে পড়ে-বঙ্গবন্ধু লু’টপাটকারিদের হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ‘বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে আমাকে আনতে হয়, আর এই চোরের দল আমার দুঃখী মানুষের সর্বনা’শ করে এভাবে লু’টতরাজ করে খায়। আমি শুধু এমার্জেন্সি দিই নাই, এবারে প্রতিজ্ঞা করেছি, যদি ২৫ বছর এই পাকিস্থানি জা’লেমদের বিরু’দ্ধে, জিন্নাহ থেকে আরম্ভ করে গোলাম মোহম্মদ, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানের বিরু’দ্ধে বুকের পাটা টান করে সংগ্রাম করে থাকতে পারি, আর আমার ৩০ লক্ষ লোকের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি, তাহলে পারব না? নিশ্চয়ই ইনশাআল্লাহ পারব। এই বাংলার মাটি থেকে এই দুর্নীতিবাজ, এই ঘুষখোর, এই মুনাফাখোরী এই চোরা’চালানকারীদের নির্মূ’ল করতে হবে। আমিও প্রতিজ্ঞা নিয়েছি, তোমরাও প্রতিজ্ঞা নাও, বাংলার জনগণও প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করো। আর না, অ’ধৈর্য, সীমা হারিয়ে ফেলেছি। এই জন্য জীবনের যৌবন ন’ষ্ট করি নাই। এই জন্য শহীদরা রক্ত দিয়ে যায় নাই। কয়েকটি চোরা’কারবারি, মুনাফাখোর, ঘুষখোর দেশের সম্পদ বাইরে বাইর করে দিয়ে আসে, …মানুষকে না খাইয়া মারে। উ’ৎখাত করতে হবে বাংলার বুকের থেকে এদের। দেখি কত দূর তারা টিকতে পারে। চোরের শক্তি বেশি না ঈমানদারের শক্তি বেশি, সেটাই আজ প্রমাণ হয়ে যাবে।’
শেখ হাসিনার ভেতরে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। পিতার রক্তের যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই পথে হাঁটছেন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিরাট বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। তিনি দুর্নীতির বিরু’দ্ধে তার সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অ’ব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জনসমূহ সমুন্নত রাখতে সরকার দুর্নীতি বিরো’ধী ল’ড়াই অ’ব্যাহত রাখবেন। তিনি বার বার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন ‘সন্ত্রা’সবাদ, দুর্নীতি ও মা’দক নির্মূ’লের ক্ষেত্রে আমাদের যু’দ্ধ অ’ব্যাহত থাকবে।’
সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ল’ড়াই অ’ব্যাহত রাখতে হবে। পেছনে ফিরে আসার আর সুযোগ এই। দুর্নীতিমুক্ত বৈ’ষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে দিনরাত এক করে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন নতুন ষড়’যন্ত্র উন্মাদনায় মেতে ওঠে কিছু মুখোশধারী ক্ষমতালোভীরা। সকল অর্জনকে ম্লান করে দিতে চায় তারা। সম্প্রতি চালানো অভিযানে তাদের ভিত কম্পমান, তারা আজ দিশেহারা।
আমরা বিশ্বাস করি, কোন আদর্শহীন, চরিত্রহীন, উন্মাদ অর্থ-ক্ষমতালোভী কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষের কাছে ৩০ লাখ শহীদের বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ জি’ম্মি থাকতে পারে না। আর যত বড় বাধাই আসুক না কেন এই ল’ড়াইয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে জিততেই হবে। যদিও এই ল’ড়াই ভীষণ কঠিন ও জটিল। আসুন বঙ্গবন্ধু-কন্যার সাথে থাকি নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য। সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জাতি গঠনে এই ল’ড়াইয়ের বিকল্প নেই।
আমাদের পরম সৌভাগ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর এ দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো ভিশনারি এমন বিরল নেতা পেয়েছে।

Check Also

মামুনুল হকের সাজা দাবি করছে খোদ হেফাজতে ইসলাম

হেফাজতের গ্রুপিং এখন চরমে উঠেছে। বিশেষ করে মামুনুল হকের বিত’র্কিত নানা রকম বক্তব্য এবং একের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *